মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৩ নভেম্বর ২০১৬

‘ভিতরগড় প্রাচীন দূর্গনগরী’ বিষয়ক সেমিনার


প্রকাশন তারিখ : 2016-11-13

পঞ্চগড়স্হ ‘ভিতরগড় প্রাচীন দূর্গনগরী’ নিয়ে ভিতরগড় প্রমোশনাল সোসাইটি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে আজ জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে “হাউ টু সেভ ভিতরগড় ফর প্রসপারিটিঃ নিড ফর এ্যা ওয়েল কোঅর্ডিনেটেড এ্যাকশান প্ল্যান” বিষয়ক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও বিশেষ অতিথি হিসেবে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর উপস্হিত ছিলেন। অতিথি হিসেবে ছিলেন সংস্কৃতি সচিব আকতারী মমতাজ।

স্বাগত বক্তব্য দেন ভিতরগড় প্রমোশনাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ করিম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন।

ভিতরগড় প্রাচীন দূর্গনগরী নিয়ে বিস্তৃত উপস্হাপনা করেন সেমিনারের প্রধান বক্তা ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস্ (ইউল্যাব) এর অধ্যাপক প্রত্নতত্ত্ববিদ ডক্টর শাহনাজ হোসনে জাহান।

ভিতরগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য বিষয়ে একটি উপস্হাপনা পেশ করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা।

সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক কি-নোট উপস্হাপন করেন ভিতরগড় প্রমোশনাল সোসাইটির সভাপতি ও সেমিনারের সভাপতি প্রত্নতত্ত্ববিদ সোহেল আহমদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ প্রত্নসম্পদে সমৃদ্ধ একটি দেশ। মাটির উপরে ও মাটির নীচে প্রচুর প্রত্নসম্পদ রয়েছে। আমাদের নানাবিধ সমস্যা ও সংকট রয়েছে। অর্থের সংকট থাকলেও তা তেমন বড় সমস্যা নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো প্রত্নসম্পদের দখলের বিষয়টি। পুরান ঢাকার শাখারি পট্টি, ছোট কাটরা, বড় কাটরা, লালবাগ কেল্লা, ভিতরগড়সহ সব জায়গায় একই অবস্হা। দখলকারীদের একটি প্রভাব বলয় রয়েছে, আমাদের জন্য যা বিরাট সমস্যা। এছাড়া দক্ষ লোকবল ও বিশেষজ্ঞের অভাবও রয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্নসম্পদের খনন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে বিষয়টি জরুরী তা হলো পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান কার্যক্রম জোরদার করা । কিন্তু অর্থ সংকটসহ নানাবিধ সংকটে তা আমরা পারছিনা। ভিতরগড়ের বিরাট অংশ দখল হয়ে আছে। দখলমুক্ত করে প্রাচীন এ দূর্গনগরীর খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু আইনের প্রয়োগ ও সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়, বসবাসীকারীসহ সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ, সচেতনতা ও চেতনা দরকার ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন প্রত্নসম্পদের নাম অনেক আগে জানা গেলেও ভিতরগড় প্রাচীন দূর্গনগরীর নাম তেমন জানা যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সমৃদ্ধ এ ইতিহাসকে জনগণের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে, যা একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, বর্তমান সংস্কৃতিবান্ধব সরকার দেশজ সংস্কৃতির উন্নয়ন ও বিকাশে অত্যন্ত সচেষ্ট রয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও রক্ষণাবেক্ষণে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ভিতরগড় একসময় দেশী বিদেশী পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। হাজার বছরের দূর্গনগরী ভিতরগড়ের প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ পরিদর্শনে আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি এক্ষেত্রে অর্থ সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেন। সেমিনারে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী। সেমিনার শেষে জাদুঘরে ভিতরগড় দূর্গনগরীতে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের কিছু ছবি ও প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী । সংস্কৃতিমন্ত্রীসহ সেমিনারে আগত অতিথিবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।


Share with :
Facebook Facebook