মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৭ ডিসেম্বর ২০১৬

‘কপিরাইট আইন যুগোপযোগী করা এবং সফ্টওয়্যার ও ওয়েবসাইট কর্মের স্বত্বাধিকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ’ শীর্ষক কপিরাইট বিষয়ক কর্মশালা


প্রকাশন তারিখ : 2016-12-06

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান কপিরাইট অফিসের আয়োজনে আজ ০৬ ডিসেম্বর ২০১৬ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার কক্ষে ‘কপিরাইট আইন যুগোপযোগী করা এবং সফ্টওয়্যার ও ওয়েবসাইট কর্মের স্বত্বাধিকারীর স্বার্থ সংরক্ষণ’ শীর্ষক কপিরাইট বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তর সচিব মো: মসিউর রহমান সভাপতিত্বে এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আক্‌তারী মমতাজ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী। সেমিনার বিষয়ভিত্তিক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলা একাডেমির সাবেক পরিচালক কপিরাইট বিশেষজ্ঞ কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা। পঠিত প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব সফট্ওয়্যার এ- ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান  সাখাওয়াত হোসেন মামুন ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের পরিচালক মো: রেজাউল মাকসুদ জাহেদী ।সফট্ওয়্যার ও ওয়েবসাইট নির্মাণ, বাণিজ্যিকরণ ও এ সংশ্লিষ্টকর্মের সাথে জড়িত ৭০জন এ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁদের মতামত উপস্থাপন করেন।
মূল প্রবন্ধে কবি নুরুল হুদা বলেন, প্রতিটি মেধাসম্পদেরই একটি নান্দনিক ও বাণিজ্যিক মূল্য আছে। সফট্ওয়্যার একটি বিমূর্ত শিল্প, এর ক্ষেত্রেও তাই। আমাদের বিদ্যামান যে কপিরাইট আইন তা একবার সংশোধিত হলেও তা তেমন যুগোপযোগী নয়। যুগ, সমাজ ও বাজার চাহিদার ভিত্তিতে তা প্রতিনিয়ত সংশোধন হওয়া প্রয়োজন। জাপানের উদাহরণে তিনি বলেন, সেখানে প্রতিনিয়ত কপিরাইট আইন হালনাগাদ করা হয়। জাপানের রাজস্বের সবচেয়ে বেশি আসে এখাত থেকে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রেও এমনটি হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশে গ্রন্থ কপিরাইট সমিতি নেই। সংঙ্গীত বিষয়ে একটি সমিতি রয়েছে। অন্যান্য মেধাসম্পদের বিষয়েও এমন সমিতি করা প্রয়োজন । তাহলে তা মেধাসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
বেসিস স্ট্য্যন্ডিন কমিটির কো-চেয়াম্যান সাখাওয়াত হোসেন মামুন বলেন, সফট্ওয়্যার প্রতি মুহূর্তে কপি হচ্ছে ফলে যিনি বা যে প্রতিষ্ঠান তা তার উদ্যোক্তা তাঁরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং সফট্ওয়্যার শিল্প সামগ্রিকভাবে এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সেমিনারে তিনটি প্রস্তাব তুলে ধরেন, তাহলো-সফট্ওয়্যার নিয়ে আলাদা কপিরাইট আইন তৈরি করা বা বিদ্যামান আইনকে যুগোপযোগী করা, পেটেন্ট ডিজাইন নীতিমালা সংশোধন করা এবং ডিজিটাল বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক বলেন, কপিরাইট আইন লঙ্ঘনের জন্য জেল দ-ের পরিবর্তে বড় অংকের আর্থিক জরিমানার বিধান রাখা প্রয়োজন। কারণ একজন মেধাবী লোকের এ অপরাধে জেলে যাওয়া উচিত নয় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে সরকারি ওয়েবসাইটের যেকোন তথ্য বা ছবি যে কেউ ব্যবহার করতে পারে। এক্ষেত্রে সেখানে কোন আইনগত বাধা নেই। আমাদের দেশেও এমন হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি সেমিনারে উল্লেখ করেন।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের পরিচালক মো: রেজাউল মাকছুদ জাহেদী বলেন, মেধা সম্পদ ও এর স্বতাধিকারীর স্বার্থ সংরক্ষণে সবার মাঝে এ বিষয়ে নৈতিকাবোধ ও সচেতনতা সৃষ্টিকরা জরুরী। এসব বিষয়ে কপিরাইট আইনসহ রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজতর করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিসচিব বলেন, কপিরাইট আইন হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই এমন সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। এখানে উপস্থিত বিশিষ্টজন, বিশেষজ্ঞ ও মেধাসম্পদের স্বতাধিকারী ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ ও মতামতের ভিত্তিতেই পরবর্তীতে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তিনি বলেন, ইতোপূর্বে সংঙ্গীত বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি কর্মশালা করেছি।  এবার সফট্ওয়্যার ও ওয়েবসাইট সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হলো। আগামীতে প্রকাশনা শিল্প, চলচ্চিত্রসহ অন্যান্য মেধাসম্পদ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করা হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতেই বিদ্যমান কপিরাইট আইন সংশোধন ও হালনাগাদ করা হবে। এক্ষেত্রে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

 


Share with :
Facebook Facebook